Select Page

বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ চুকিয়ে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পা রাখার প্রথম বছরে তাঁদের চোখে থাকে অপার স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবে নিজেকে, হাল ধরবে পরিবারের। কারো স্বপ্ন আরেকটু বড়, দেশের উন্নয়নে তার থাকবে বলিষ্ঠ অবদান, এই দেশের মানুষ স্মরণ করবে সেই অবদানের কথা। কেউবা আবার বিশ্বায়নের এই যুগে স্বপ্ন দেখে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার, বিশ্বমঞ্চে সগৌরবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার, বিজয় মঞ্চে দেশের লাল সবুজ পতাকা ওড়ানোর। গড়পড়তা আঠারো বছর বয়সী এই তরুণদের স্বপ্নগুলো আকাশ ছুঁতে চায়।

এরপর দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। এক নতুন পরিবেশে, নতুন আবহে, নতুন কিছু মানুষের সাথে হাসি-কান্নায়, আনন্দ-বেদনায়, গল্পে-আড্ডায় কিছু বুঝে উঠার আগেই একটা ঘোরের মধ্য দিয়ে যেন উচ্চশিক্ষাকালিন সময়টুকুও শেষের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। আঠারো বছরের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা তরুণরা ততদিনে বাইশ বছরের টগবগে যুবক, জীবনের আরেক সন্ধিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে।

কিন্তু জীবনের এই সন্ধিক্ষণে এসে ওরা যেন কিছুটা দিকভ্রান্ত! চার বছরের উচ্চশিক্ষা শেষে ওদের সবার হাতেই সার্টিফিকেট নামক একটা কাগজ আছে, কিন্তু শুধু সেই কাগজটাই যেন যথেস্ট নয়। যে স্বপ্নগুলো উচ্চশিক্ষা জীবন শুরুর সময় ওরা দেখেছিলো সময়ের আবর্তে অনেকেরই সেই রঙিন স্বপ্নগুলো পথ হারিয়ে ধূসর। ওদের প্রত্যেকের মাঝে যে অমিত সম্ভাবনার বীজ বোনা ছিল, সেই বীজগুলোর প্রতিটিই কি এক একটা মহীরুহে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনায় উদ্ভাসিত হতে পেরেছে? নাকি অঙ্কুরেই নষ্ট হয়েছে তা? নিজের ও পরিবারের হাল ধরতে কি ওরা প্রস্তুত? নিজেকে দেশ ও দশের মাঝে স্মরণযোগ্য করে রাখার প্রস্ততিরই বা কি হল? বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকা ওড়ানোর জন্য বিশ্ব নাগরিকদের সাথে যে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে তার প্রস্ততিই বা কতখানি?

অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বতর্মান সময়ের তরুণদের সুযোগ অনেক বেশি। ওদের প্রায় প্রত্যেকেরই হাতে আছে স্মার্ট ডিভাইস, আছে ইন্টারনেট, ওদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য রয়েছে সরকারি- বেসরকারি নানা উদ্যোগ। তাহলে স্বপ্নগুলো পথ হারায় কেন? প্রস্ততিতে ঘাটতি কেন? সমস্যাটা কোথায়?

উত্তর খুঁজছি এই প্রশ্নগুলোর  ।

আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য ও আলোচনায় উঠে আসুক উত্তরগুলো। ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

লেখক- কাজী হাসান রবিন, প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট ফোরাম।

 

error: