Select Page

প্রোগ্রামিং লাইফ নিয়ে কথা বলার আগে গোড়া নিয়ে কিছু বলি। মাত্র ৪ ঘন্টা না হয় ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘুমালাম। তারপর ফ্রেশ হওয়া, রেডি হওয়া এবং সকালের সর্বশেষ কাজ ভার্সিটিতে ক্লাস করা। তাহলে ব্রেকফাষ্ট? করলে করলাম না করলে নাই। তবে হ্যা, যদি ব্রেকফাষ্ট না করি প্রতিটি ক্লাসের ব্রেকে বন্ধুদের সাথে ক্যান্টিনে গিয়ে আড্ডা দিয়ে চা খাওয়া মিস করি না। চায়ের সাথে টাও কিন্তু আছে।

এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে কপালে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচন্ড ঘুম দেওয়া। কপালে না থাকলে নাই। কেননা শুধু ভার্সিটির ক্লাস নয়, বরং একই সাথে ২/৩টা টেকনিক্যাল কোর্স করা প্রতিনিয়ত আমার অভ্যাস। তাই বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই। একেবারেই ক্লান্ত হলে সন্ধ্যায় ২ ঘন্টা ঘুমিয়ে নেই।

এবার আসি কাজের কথায়। বললাম না ২/৩টা টেকনিক্যাল কোর্স করি। এই কোর্সগুলো আসলে কিসের? করিটা কি আমি? এটাই আমার ক্যারিয়ার গঠনের ফাউন্ডেশন। মানে আমি শুধুমাত্র কোডিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে কোডিং খাই, পিন্দি আর মাথায় দেই। আবার মাঝে মাঝে কোডিং এর ইজ্জ্বতও মেরে দেই (বেসিক ভুল)। কোডিং সংক্রান্ত কোর্সগুলা সম্পর্কে একটু বলা যাক।

আমার স্বপ্ন একজন ভাল প্রোগ্রামার হওয়া (প্রোগ্রামার আর কোডার এক কথা নয়। দুটো আলাদা আলাদা)। কিন্তু সারাদিন এই স্বপ্ন দেখলে তো চলবে না। স্বপ্নের পাশাপাশি পরিশ্রমও করে যেতে হবে। এবারে আপনার প্রশ্ন কোডিং নিয়ে তো শত শত লাইন রয়েছে। কেউ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কোডিং করে, কেউ সফ্টওয়্যার নিয়ে কোডিং করে, কেউ গ্রাফিক্স নিয়ে কোডিং করে কেউ আজাইরা কাম সহ ইত্যাদি ইত্যাদি লাইনে কোডিং করে। তাহলে আমি কোন লাইনের কোডিং করছি?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য যেসব কোডিং রয়েছে তা সবগুলোই w3schools এ গেলে সিরিয়াল করে দেখতে পাওয়া যায়। যেমন- HTML, CSS, JavaScript, jQuery, Bootstrap, SQL. PHP, ASP.Net, Node.js, XML ইত্যাদি সহ নানা ধরনের কোডিং। এমনকি জাভার কটলিন এর মাধ্যমেও আপনি ওয়েভ ডেভেলপমেন্ট করতে পারবেন।

আর যদি সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর কথা বলি তাহলে C, C++, C#, Java, Python, R, Rubi, GO, Swift সহ নানা ধরনের অসংখ্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ রয়েছে।

এসব প্রোগ্রামিং এর নিজস্ব ভাষা কি একই রকম? না কখনই একই রকম না। তবে কাজ করার সিষ্টেম একই রকম। একসাথে এতগুলো প্রোগ্রামিং ল্যাগুয়েজ আয়ত্ত্ব করা আমার মত হাবলুদের জন্য কঠিন। কিন্তু আপনার জন্য হয়ত সহজ। এজন্য কোডিং লাইফের শুরুতেই C প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি খুবই ভাল করে আয়ত্ত্ব করতে হবে। কেননা C কে বলা প্রোগ্রামিং এর মাদার ল্যাংগুয়েজ। এরপর আপনি অন্তত একটি Object Oriented Programming (OOP) করে নিবেন। সবশেষে ইচ্ছা থাকলে Python করতে পারেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর কথা মুখে আনলে পাইথন ছাড়া উপায় নেই। কেন সেটা আপনি নিজেই ট্রাই করে দেখতে পারেন।

আমি সফ্টওয়্যার ডেভেলপার হতে চাই। কিন্তু কোডিং সব ধরণেরই করে থাকি। কেননা ইঞ্জিনিয়ারিং এর চারটি বছর আমি সামনে যা পাব তাই শিখে নিব। তবে এক্সপার্ট একটিতে হব। আর সেটা সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টেই হব। এবারে আপনার প্রশ্ন হল, বাকি লাইনের কোডিং কেন করছি? করে কিই বা লাভ আমার?

আমি আমার বেসিক পূর্ণাঙ্গভাবে ক্লিয়ার করা থেকে শুরু করে সব ধরণের কোডিং লাইফের স্বাদ গ্রহণ করতে চাই। ভাল, মন্দ, মোটামুটি ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি সঠিকভাবে এই কাজটি আমি করতে পারি তাহলে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারব। হোক সেটা ৩০/৪০ বছর পর কিংবা এখন। এই ভার্সিটি লাইফে যদি টেকনিক্যাল কাজগুলো সঠিকভাবে আয়ত্ত্ব না করতে পারি তাহলে চাকরি করার বয়সে গিয়ে কখনোই শিখতে পারব না।

এবারে আপনার প্রশ্ন হল, যদি সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে কোন ল্যাংগুয়েজ নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন? কথা না ঘুড়িয়ে ডাইরেক্ট এন্সার- পাইথন (Python)। তবে বাকি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলোও আয়ত্ত্ব করে রাখব। আবার আপনার প্রশ্ন, কিন্তু কেন? উত্তর আগেই দিয়ে দিয়েছি।

আমার কোডিং লাইফ

বলে নিচ্ছি- যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্যি ছাড়া মিথ্যা বলিব না। আমি সন্ধ্যার পর থেকেই প্রতিদিন কোডিং করতে থাকি। হোক সেটা ওয়েব এর কিংবা হোক সেটা সফ্টওয়্যার এর। সি, পাইথন এই দুইটি প্রোগ্রামিং এই সবচেয়ে বেশি করা হয়। আর আপাতত ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। জানিনা ওয়েব এর কোডিংগুলোতে আদৌ কিছু করতে পারছি কিনা। কেননা মন থেকে ওয়েব এর কোডিং মেনে নিতে পারিনি। সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি পাইথনে প্রোগ্রামিং করে।

প্রোগ্রামিং করার জন্য আমি অনলাইনে বিভিন্ন অনলাইন জাজ ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামিং করি। তবে তার আগে প্রোগ্রামিং এর নানা বাংলা এবং ইংরেজি লেখক এর বই পড়ে প্র্যাকটিস করি। তার চেয়েও বেশি প্র্যাকটিস করি অনলাইনে নানা ধরনের কোড হাত্রিয়ে। মজাটা তখনই লাগে যখন অন্যের কোডকে ভালভাবে বুঝার পর নিজের মত করে মডিফাই করতে সক্ষম হই।

আপনি যদি বিড়ি/সিগারেটে খেতে ভালবাসেন তাহলে আমি কোডিং এর সময় চা/কফি খেতে ভালবাসি। কফি টাই বেশি চলে। কোডিং এর সময় ঘুম আসলে, মাথা ব্যাথা করলে, মাথা ঝিমালে ইত্যাদি ইত্যাদি সময়ে বা অসময়ে আমি কফি খেয়ে নিজেকে ঠিক রাখি। আর এই কফির আশীর্বাদে রাতের ঘুমও আমাকে টাচ করতে পারে না। সারা রাত কোডিং চলতে থাকে আর সাথে কফি খাওয়া।

coffee mog

ঘুমাই কখন? ভোর রাতে ৫/৬ টায়। সকালে ঘুম থেকে উঠি কখন? সকাল ৮/৯ টায়। বাস মশাই শুরু হয়ে যায় উপরের কাহিনী। এককথায় আমি কোডিং এর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি।তাই সারা রাত কোডিং নিয়েই পড়ে থাকি। শুধু এই কারণে ভার্সিটির পড়াগুলাও পড়তে পারি না। হয়ত পরীক্ষার আগের রাত পড়তে হয়। আসল কথা হল, আমি কোডিং-এ থাকি ভাই আমার হিসাব থাকে না 🙂

error: