Select Page

আজ ২৫ শে অক্টোবর যা ঐতিহাসিক অক্টোবর বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব নামে পরিচিত।

১৯১৭ সালের এই দিনে রাশিয়ার রোমান বংশের শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস এর বিরুদ্ধে বিপ্লব সংগঠিত হয় যার মূল নেতৃত্বে ছিলেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ যাকে আমরা ‘লেনিন’ নামে চিনি। সাইবেরিয়ার ‘লেনা’ নদীর নামানুসারে তিনি নিজের ছদ্মনাম নাম রাখেন লেনিন। রাজনৈতিক অত্যাচার থেকে বাঁচতে মার্কসবাদী এই নেতা তার এই ছদ্মনাম রাখেন।

বিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জারের বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করে ক্ষমতা নিজে দখল করে নেন।পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের যাত্রা শুরু হয় যা ১৯৯১ সালে নতুন ১৫ টি রাষ্ট্র (যেমন বেলারুশ, আজারবাইজান, ইউক্রেন, জর্জিয়া, কাজাকিস্তান ইত্যাদি) সৃষ্টির আগ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন নামেই পরিচিত ছিলো যা এখন রাশিয়া নামে পরিচিত।

যাই হোক বলশেভিকরা (লেনিনের সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বিপ্লবী যারা) ‘জার (রাশিয়ান সম্রাট)’ কে হটিয়ে দিয়েছে তার দুর্বল নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অপারদর্শিতা, কঠোর আইনের ব্যবহার, স্বৈরতন্ত্র ইত্যাদির কারণে। এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অসংখ্য সৈন্য মারা যায়, বেতন ভাতার ঘাটতি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে ব্যর্থতা, তথাকথিত ধর্মগুরু খ্যাত রাসপুটিনের (রহস্যময় এই কাহিনী আরেকদিন লিখবো) ইচ্ছেমত প্রসাদে যাওয়া আসা ও ক্ষমতালাভ এবং পুঁজিবাদকে ইস্যু করে রাশিয়াতে এমন বিপ্লব হয়। ১৯০৫ সালে জারের পুলিশ বাহিনীর দ্বারা নিহত হয় অসংখ্য শ্রমিক যা ইতিহাসে ‘ব্লাডি সানডে’ নামে পরিচিত যেটি ১৯১৭ সালে জারের পতনে বেশ ভূমিকা রাখে। ১৯১৮ সালে দ্বিতীয় নিকোলাস জারকে সপরিবারে হত্যা করা হয় মজার বিষয় হলো রাশানরা লেনিনকে এখন আর নায়কের চোখে দেখে না বরং তার চেয়ে দ্বিতীয় নিকোলাস জারকে বেশি সম্মান দেয়। তাকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিলো সেখানে রাশিয়া সরকার একটি গির্জা ও নির্মাণ করেছে যার নাম ‘চার্চ অন ব্লাড’।

১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যু হয়, ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়াকে (S.U) নেতৃত্ব দেয়া কম্যুনিস্ট জোসেফ স্ট্যালিন। মৃত্যুর অনেক বছর পর ও আজ ও রাশিয়ার রেড স্কয়ারে লেনিনের লাশ মমি করে রাখা হয়েছে বর্তমানে লেনিন বিরোধীরা সেটির বিরোধীতা করছে,তার ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলতে ও তারা এখন মরিয়া এমনকি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পর্যন্ত লেনিনের সমালোচক, লেনিন মূলত মার্কসবাদী নাস্তিক ছিলেন এবং সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী অপরদিকে দ্বিতীয় নিকোলাস জার ছিলেন অর্থোডক্স খ্রিস্টান (রোমান ক্যাথলিক নয়) আবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট পুতিন অর্থোডক্স খ্রিস্টান যিনি মনে করেন কম্যুনিস্ট লেনিন রাশিয়াতে সমাজতন্ত্রের নামে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ, ধর্মগুরু ও তার বিরোধী নেতাদের হত্যা করেছিলেন। একই কান্ড ঘটিয়েছিলেন জোসেফ স্ট্যালিনও (হাজার হাজার খ্রিস্টান ধর্মগুরুকে হত্যা, সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েক হাজার গির্জা, মন্দির, প্যাগোডা, মসজিদ (বর্তমান কাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এলাকার অনেক মসজিদ) ইত্যাদি ভেঙ্গে দিয়েছিলেন)।

যাই হোক বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে লেনিনের অসংখ্য সমর্থক আছেন যাদেরকে আমরা বামপন্থি হিসেবে চিনি। আজ অক্টোবর বিপ্লবের ১০১ বছর হলো। সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন কতোটুকু বাস্তবায়িত হলো তা ও দেখার বিষয়, জানার বিষয় তবে বলা যায় চীন, কিউবা উত্তর কোরিয়ার মত কিছু দেশ ছাড়া সমাজতন্ত্র বর্তমানে সব জায়গায় কোণঠাসা হয়ে আছে। তবে পুঁজিবাদ কিন্তু এখন ও বিদ্যমান, এই যে আমাদের দেশেরই সাধারণ জনগণের মোট সম্পদের চেয়ে কিন্তু দেশের শ খানেক ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ বেশি। যাই হোক অক্টোবর বিপ্লবের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস পরিবারের হত্যার ঘোর বিরোধীতা করি।

error: